আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের মাত্র কয়েকদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীবিদ্বেষী পোস্ট ের কারণে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার তানজিম হাসান সাকিব। সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে সাকিব তার চতুর্থ বলে ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মার উইকেট নিয়ে ব্যতিক্রমী ছাপ রেখেছিলেন। শেষ ওভারেও তিনি নিজের ধৈর্য ধরে রেখে বাংলাদেশকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন।

তবে ২০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের প্রশংসা দ্রুত ক্ষোভে পরিণত হয় যখন নারী অধিকার কর্মী এবং নারীবাদীরা তার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে পাওয়া নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের নিন্দা জানায়। গত বছরের একটি ফেসবুক পোস্টে তানজিম হাসান সাকিব বলেন, ‘স্ত্রী কাজ করলে স্বামীর অধিকার নিশ্চিত হয় না। তিনি আরও বলেন, ‘স্ত্রী কাজ করলে সন্তানের অধিকার নিশ্চিত হয় না। স্ত্রী কাজ করলে তার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। স্ত্রী কাজ করলে সংসার নষ্ট হয়ে যায়। স্ত্রী কাজ করলে ওড়না নষ্ট হয়ে যায়। স্ত্রী কাজ করলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব
বাংলাদেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে নারীদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে, তবুও মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে ঐতিহ্যবাহী পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব এখনও বিদ্যমান।

তানজিমের এই মন্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্যারিসভিত্তিক নারীবাদী লেখিকা জান্নাতুন নাঈম প্রীতি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি মূলত কারখানার নারী শ্রমিকরাই তৈরি করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তানজিমের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে লেখক স্বকৃত নোমান তার মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ আখ্যায়িত করেছেন। সাংবাদিক মেজবাউল হক জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়ের স্টার স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, এ ধরনের বিকৃত ধরনের নারীবিদ্বেষ গ্রহণযোগ্য নয়।

তদন্ত শুরু করেছে বিসিবি
বিতর্কের জবাবে বিসিবি ঘোষণা দেয়, তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করছে। ক্রিকেট অপারেশন্স প্রধান জালাল ইউনুস বিষয়টি সমাধানে বোর্ডের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিতর্ক সত্ত্বেও, তানজিম তার অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত সিনিয়র ক্যারিয়ারে ১২ টি প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচে অংশ নিয়েছেন, ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ের পরে।